Skip to main content

শ্রমিক ঠকানো মহাপাপ


ইসলাম অন্যান্য অধিকারের মতো শ্রমিক অধিকারের ব্যাপারেও অত্যন্ত সোচ্চার। শ্রমিকের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে খুবই কঠোর। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি, ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শোকানোর পূর্বে তার মুজুরি পরিশোধ কর।’ – ইবনে মাজাহ: ৩/৯৭ এ প্রসঙ্গে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের ব্যাপারে আমি নিজে অভিযোগ উত্থাপন করব- এক. যে ব্যক্তি আমার নামে অঙ্গিকার করার পর তা ভঙ্গ করেছে। দুই. যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করেছে। তিন. যে ব্যক্তি শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর পর, পাওনা পরিশোধ করেনি।’-সুনানে সুগরা লিল বাইহাকি: ২/১৪০ শ্রমিকের অধিকারগুলোর মাঝে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো- তার পারিশ্রমিক। পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রে মালিক দু’টি আবশ্যকীয় বিষয় নিশ্চিত করবে। এক. সময়মতো পারিশ্রমিক প্রদান করবে। পারিশ্রমিক দিতে বিলম্ব করবে না। যে সব শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে এবং তাদের বেতন মাস হিসেবে নির্দিষ্ট করা; মাস শেষ হওয়া মাত্রই তাদের বেতন দিয়ে দিতে হবে। আর যে সব শ্রমিক নিয়মিত নয়, দিন হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত- তাদের দিন শেষ হওয়া মাত্রই বেতন দিয়ে দিতে হবে। এক কথায়, কাজ হিসেবে শ্রমিককে কাজে লাগালে কাজ শেষ হওয়া মাত্রই নির্ধারিত বেতন দিতে হবে। দুই. চুক্তিমতো পারিশ্রমিক প্রদান। পূর্ব নির্ধারিত পারিশ্রমিকের চেয়ে কম দিবে না। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাগুলোতে অনেক সময় দেখা যায়, মালিক পক্ষের কর্মকর্তরা অসহায় গরিব শ্রমিকদের ওপর জুলুম করে। কোনো শ্রমিক কোনো কারণে উপস্থিত হতে পাঁচ-দশ মিনিট বিলম্ব করলে তার হাজিরা কেটে দেয়। সারাদিন কাজ করার পরও মাস শেষে সে দিনের বেতন তাকে দেওয়া হয় না। এটা অমানবিক নীতি। ইসলাম এটা সমর্থন করে না। প্রায়ই দেখা যায়, ঈদের আগে পোশাক খাতের শ্রমিকরা পথে এসে আন্দোলন করে। ঈদের পূর্বেই বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি করে। ব্যাপারটি মালিকদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। মুসলিম মালিকদের জন্য আরও বেশি লজ্জার। যে গরিব মানুষগুলো নিজেদের পরিশ্রমে মালিকের সম্পদ বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে, তার নিত্যদিনের প্রয়োজন এমনকি বিলাসিতার যোগান দিচ্ছে; ঈদের আগে নিজেদের সামান্য বেতন ও বোনাসের কয়টা টাকার জন্য তারা কেন উদ্বিগ্ন থাকবে? যে শ্রমিকের খাওয়া-পরা মালিকের দায়িত্বে সে শ্রমিকের খাওয়া-পরার ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুস্পষ্ট নির্দেশ হলো- ‘তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খেতে দিবে। তোমরা যা পরবে তাদেরও তা পরতে দিবে।’ – সুনানে আবু দাউদ: ৫১৬৩ সাধারণত বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের খাওয়া-পরা মালিকের দায়িত্বে থাকে না। কিন্তু বাসা- বাড়ি, দোকান, ক্ষেত-খামার এবং ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের খাওয়া বা খাওয়া-পরা উভয়টা মালিকের দায়িত্বে থাকে। এ ক্ষেত্রে একজন ঈমানদার মালিক- যে আল্লাহ, নবী ও পরকালকে বিশ্বাস করে; সে নিজের পরিবারের জন্য রান্নার এক তালিকা আর শ্রমিকদের জন্য রান্নার আরেক তালিকা করতে পারে না। যে খাবার মালিক নিজে খাবে, নিজের পরিবারের সদস্যদের খাওয়াবে- সেই খাবারই দোকানের কর্মচারিকে, ক্ষেতের মুজুরকে, প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভারকে, বাসার দারোয়ানকে, কাজের মেয়েকে খেতে দিতে হবে। বাসার কাজের মেয়েকে জামা দেওয়ার সময় হুবহু ওই জামা দিতে হবে, যে জামা মালিক কিংবা তার নিজের ঔরসজাত মেয়ে পরিধান করে। বাসার কাজের বুয়াকে শাড়ি দেওয়ার সময় হুবহু ওই শাড়ি কিনে দিতে হবে, যে শাড়ি মালিক নিজের স্ত্রীকে কিনে দেয়। প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার, বাসার দারেয়ান, দোকানের কর্মচারি, কারখানার শ্রমিককে শার্ট-প্যান্ট দেওয়ার সময় হুবহু তা-ই দিতে হবে, যা মালিক নিজে ব্যবহার করে। মনে রাখতে হবে, এটা ইসলামের নির্দেশ। এটা রাসূলের নির্দেশ। এটা রাসূলের আদর্শ। এটা সাহাবাদের জীবনাদর্শ। নিজে গোশত দিয়ে ভাত খেয়ে কর্মচারি ও ড্রাইভারদের শাক-ভর্তা খেতে দিয়ে, নিজে গরম ভাত খেয়ে বাসার কাজের মেয়েকে ঠান্ডা-বাসি ভাত খেতে দিয়ে- তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে, আর হজ করে ধার্মিক হওয়া যাবে না। নিজের মেয়েকে দু’হাজার টাকা মূল্যের জামা কিনে দিয়ে আর কাজের মেয়েকে সাত শত টাকা মূল্যের জামা কিনে দিয়ে রাসূলের অনুসারী, সুন্নতের অনুসারী হওয়া যায় না। শ্রমিককে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ দেওয়া যাবে না। যদি দিতেই হয়ে তবে মালিক নিজে তার কাজে সহযোগিতা করবে। -সুনানে আবু দাউদ: ৫১৬০ ভুল-ত্রুটির জন্য মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়াও শ্রমিকের অধিকার। এক ব্যক্তি এসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কর্মচারিকে কতবার ক্ষমা করব? রাসূল (সা.) কোনো উত্তর দিলেন না। নিরব থাকলেন। সে আবারও জিজ্ঞাসা করল। তিনি এবারও কোনো উত্তর দিলেন না। তৃতীয় বার জিজ্ঞাসা করার পর উত্তরে বললেন, ‘প্রতিদিন সত্তর বার ক্ষমা করবে।’ –সুনানে আবু দাউদ: ৫১৬৬ বর্তমানে কল-কারখানার শ্রমিকদের মারধর করা না হলেও অনেক

Comments

Popular posts from this blog

অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও কিছু পরামর্শ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী দের প্রতি রইলো উষ্ণ অভিনন্দন। যারা উত্তীর্ণ হতে পারনি তাদের প্রতি রইলো সমাবেদনা। আর কদিন পরেই তোমরা কলেজের পাট চুকিয়ে ঢুকে পড়বে কলেজ লাইফে। আর কিছুদিন পরেই ২৬মে থেকে অনলাইনে শুরু হবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া। গতবার অনেকেই অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তি হতে গিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়েছে, কেউতো পছন্দের কলেজে ভর্তিই হতে পারেনি! আর ওয়েবসাইট বিভ্রাট তো আর ছিলই। তাই এবার যারা একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিরর জন্য অনলাইনে আবেদন করবে তাদের প্রতি আমার ছোট্র কিছু পরামর্শঃ * এবার সর্বোচ্চ ১০ টি কলেজে অবেদন করতে পারবে ফিশ একই থাকছে। * যে কলেজ তুমি ভর্তি হতে বেশি ইচ্ছুক তা পছন্দ তালিকার প্রথমে রাখবে যে কলেজে ভর্তি হতে চাও না তা তে আবেদন করার প্রয়োজন নেই এমনকি পছন্দ ক্রমের শেষেও নয়। * এমন হয় যদি তুমি ভাবো, পছন্দের কলেজে তোমার চান্স পাবার সম্ভাবনা কম আর তুমি অন্য কলেজেও ভর্তি হতে চাওনা সেক্ষেত্রে তোমার করণীয় হবে শুধুমাত্র তোমার পছন্দের কলেজটি সিলেক্ট কর আবেদন কর। হতে পারে তুমি যদি প্রথম মেধা তালিকায় চান্স না পাও তাহলে দ্বিতীয়, তৃতীয় মেধা তালিকা আছে। আর এসব ...

প্রসঙ্গ যখন নতুন কলেজে ভর্তিঃ

মাধ্যমিক পাশ করার পর সবাইই চায় একটি ভালো কলেজে ভর্তি হতে। সেক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ হয় সরকারী কলেজ বা জেলা শহরের শীর্ষস্থানীয় কলেজ। কিন্তু এসব কলেজ গুলোতে যে নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা রয়েছে তা ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় অপ্রতুল। আর কলেজ গুলোতে কোটা প্রথা তো আর আছেই! তাই অনেকেই কলেজ নির্বাচনে হিমশিম খায় এবং একসময় ভূল সিদ্ধান্ত নিতে হয়! আজকাল ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে প্রাইভেট কলেজ। বাসা- বাড়ি বা আবাসিক যেখোনো জায়গায় তারা তাদের ক্যাম্পাস গড়ে নেয়। আর এসএসসি এক্সাম শেষ হবার পরপরই শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের দেয় লোভনীয় প্রস্তাব! বর্তমানে যেমন দিচ্ছে অনলাইনে ভর্তি আবেদন ফ্রী, আর কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে হয়না এমন ডায়লগ তো আর আছেই! কিন্তু ভর্তি হবার পর পরই শুরু হয় অন্য চিত্র, এসব কলেজকে কসাইকে ও হার মানায়, পড়ালেখার মান তো খারাফই সেই সাথে আছে রমরমা টিউশন বাণিজ্য! একটি শিক্ষার্থী এখানে এসে পড়ে ক্লান্ত হবে কি ক্লান্ত হয়ে যাবে টিউশন ফি দিতে দিতে! শিক্ষার্থী দের উপর অমানবিক নির্যাতন তো আর চলেই একদিন না আসলে এতো জরিমানা আরেকদিন না আসলে আরো তত জরিমানা...

কি এক মিথ্যে নগরীতে বাস করি আমি | তানভীর রানা জুয়েল

কি এক মিথ্যে নগরীতে বাস করি আমি! যেখানে আমার অস্তিত্বের স্থায়িত্ব নেই, আছে শুধু বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্খা! কি এক মিছে শহরে আমার বসবাস, যেখানে সূর্য্যের আলোয় সুখ না খুজে রাতের নিয়ন আলোতে সুখ খুজি আমি!  কি এক ঠুনকো শহরের সাথে আমার পথচলা... যেখানে সূর্যোদয়ের আলোয় আমি পথচলার ভরসা পাই, আবার থমকে দাড়াই যখন সূর্যাস্তে আলো ফুরায়, নামে তখন অন্ধকার! কি এক পাওয়া- না পাওয়ার বৃত্তে বাস করি আমি, দুপুরের এক চিলতে রোদ আমার মুখে ফোটায় হাসি, আবার আকাশ থেকে ঝড়ে পড়া বৃষ্টি মলিন করে দেয় মন,  গগণে বজ্রপাত হলে এই বুকেও রক্তক্ষরণ হয় তার বুক ফাটে আর্তনাদে এ মনও ব্যথিত হয়! আবার ঘোর কালো আধার কেটে গিয়ে আকাশের বর্ণীল রঙ দোলা দেয় এই মনে! আকাশের বুকে রঙ্গধনুর সাত রঙ দেখে এ মনেও রোমাঞ্চ জাগে! আবার অমাবস্যার চাঁদের মত এ মন রোমাঞ্চ হারায়,একাকীত্ব গ্রাস করে ফেলে! সত্যিই তো কি ভীষণ এক মিথ্যে নগরীতে আমার বসবাস! মিথ্যে হাসির আড়ালে এ শহরে বেঁচে থাকাটাই একটা অভিনয়!