Skip to main content

শবে বরাতের রজনীঃ করণীয় ও বর্যণীয়।



শবে বরাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রকার ঝড় বইছে। কেউ পক্ষে কেউ বিপক্ষে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে অশ্লীল বাক্য বিনিময় করছেন। যা ঠিক নয়। আসুন এ নিয়ে একটু নিরপেক্ষ বিশ্লষণ করি।

শবে বরাত কি: শবে বরাত বলতে আমরা লাইলাতুন নিছফি মিন শাবানকে বুঝি। সালাত, সিয়ামকে আমরা যেমন নামাজ এবং রোযা হিসেবে চিনি ঠিক তেমনি শবে বরাত একটি প্রচলিত পরিভাষা। হাদীসের এসেছে,

ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻴﻄﻠﻊ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ . ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﺠﻤﻴﻊ ﺧﻠﻘﻪ . ﺇﻻ ﻟﻤﺸﺮﻙ ﺃﻭ ﻣﺸﺎﺣﻦ

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ শাবান মাসের অর্ধ (১৫ শাবান) রাত্রিতে আসমানে আসেন এবং সকলকে তিনি ক্ষমা করে দেন শুধুমাত্র মুশরিক এবং হিংসুক ব্যাক্তি ছাড়া। (ইবনু মাজা) উল্লেখিত হাদীসখানা সহীহ বলে প্রমাণিত। এই হাদীসের আলোকে বুঝা যায় এ রাতটি ফজিলতপূর্ণ। এ কারনে এ রাতে নফল বন্দেগী করলে কোন দোষ নেই। এ রাতে নির্দিষ্ট কোন ইবাদত সাব্যস্ত নেই। ঐ দিন কোন রোযা নেই। নবী স. ১২ মাসই আইয়ামুল বিদ তথা প্রত্যেক আরবী মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোযা রাখতেন। শাবান মাস পুরোটাই রোযা রাখার চেষ্টা করতেন। সে হিসেবে কেউ রোযা রাখতে পারেন। লাইলাতুন নিছফি মিন শাবানের ফজিলত সম্পর্কিত আরো কিছু হাদীস আছে যা দূর্বল বলে বিবেচিত। তারমধ্যে হযরত আয়শা রা. রাসূল স. কে জান্নাতুল বাকীতে সিজদারত পেয়েছিলেন এই হাদিস অন্যতম। যারা শবে বরাতের পক্ষে খুব জোরাল বক্তব্য দেন তারা এই হাদিস বলে থাকেন। তবে এই হাদিসের মর্ম কিন্ত তাদের পক্ষে যায় না। ১৫ শাবানের রাত যদি এতই মর্যাপূর্ণ হবে তাহলে কেন আল্লাহর রাসুল স. উম্মাহাতুল মুমেনীন কিংবা অন্য কাউকে না জানিয়ে একাকী, চুপি চুপি ইবাদত করতে গেলেন?

এই রাতে নফল ইবাদত: নিজের গুণাহ মাফের মানসে এ রাতে ইস্তেগফার, নফল নামাজ, কুরআন পড়া, জিকির, দুয়া দুরুদ পড়া যেতে পারে। নফল ইবাদত একাকী করা উত্তম। সম্মিলিতভাবে করলে বৈধ হবে তবে তা উত্তম নয় এবং রাসূল স. এর আমলের খেলাফ।

এই রাতে কী করা যাবে না: এই রাতকে ভাগ্য রজনী বলে বিশ্বাস করা যাবে না। এই রাতে কোন ইবাদত নির্দিষ্ট করে না নেয়া। রুটি হালুয়ার আয়োজন না করা। মাজার, মসজিদ লাইটিং না করা। মাজারে গিয়ে মৃত ব্যক্তির কাছে কিছু না তালাশ করা। -------------------------------------- মনে রাখবেন, কোন নফল ইবাদত ফরজের সমতুল্য নয়। লাইলাতুল ক্বদর, তাহাজ্জুদ কিংবা ১৫ শাবানের রাতে কোটি রাকাত নামাজ পড়া হলেো তা এক রাকাত ফরজের সমান হবে না। ---------- যারা এ রাতকে পালন করতে চান সহীহ কায়দায় করার চেষ্টা করুন। কোন শিরক, বিদয়াত যেন মিশ্রিত না হয়। এ রাতের আসল শিক্ষা হল, শিরক মুক্ত এবং হিংসা মুক্ত থাকা। ------------ আর যারা এই রাতকে পালন না করতে চান তাকে নিয়ে যেন আমরা টানাটানি না করি। নফল নিয়ে বাড়াবাড়ি ইসলাম পছন্দ করে না। ঐ সাহাবীর কথা খেয়াল করুন যিনি রাসূল স. কে নামাজ, রোযা, হজ্জ, যাকাত সম্পর্কে প্রশ্ন করার পর আল্লাহর রাসূল ফরজ গুলো বলেছিলেন। তিনি বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন এর চাইতে আর কিছু আছে কিনা। যখন রাসুল স. বলছিলেন, না। তখন তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর শপথ আমি এর চাইতে আর বাড়াবোনা আর কমাবোনা। তিনি প্রস্থান করলে রাসূল স. তার প্রতি ইশারা করে বলেছিলেন, উনি সত্য বলে থাকলে জান্নাতি..... (আমরা নফল নিয়ে যেভাবে উদগ্রীব সেভাবে ফরজ নিয়ে উদগ্রীব হলে আমাদের এত দূর্দশা হত না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা বুড়া-বুড়ি হয়ে যায় তারপরো বলি, পড়ালেখা শেষ করে নিক তার পর দেখা যাবে....যাকাত, হজ্জ, মসজিদে গিয় পাচ অক্ত নামাজ আদায়, পর্দা নিয়ে অতটা মাথা ব্যথা নেই আমাদের..........) আল্লাহ সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

কাছের মানুষ ও বিশ্বাস ঘাতকতা | তানভীর রানা জুয়েল

পৃথিবীতে কাছের মানুষ থেকেই আপনার কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি! ইতিহাস স্বাক্ষী যুগে যুগে বিশ্বাস ঘাতকতার এমন নজির স্থাপন করে গেছে মীর জাফর ঘষেটি বেগমেরা! এরকম মীরজাফরে আমাদের সমাজ আজ ভরপুর! কাছের মানুষজন আপনার নিকটে এসে আলগা পিরিত দেখাবে দূরে গিয়ে বলবে আপনি ভালোনা! এরকম লোকের সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়, দিন দিন এরকম লোকের সংখ্যা বেড়েই চলছে! কথাগুলো বলার কারণ, পাঠাওয়ের সিইও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফাহিম সালেহ যুক্তরাষ্ট্রে তারই সহকারীর হাতে খুন হউন যে কিনা প্রতিনিয়ত তার টাকা চুরি করে আসছিলো! এক সময় ফাহিম সালেহ তা বুঝতে পেরে তাকে আস্তে আস্তে টাকা পরিশোধ করতে বলেন আর সে কিনা তাকে খুন করে ফেললো! উল্লেখ্য খুন হওয়ার ৭২ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় ফাহিম সালেহের খুনী তারই সহকারী!

অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও কিছু পরামর্শ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী দের প্রতি রইলো উষ্ণ অভিনন্দন। যারা উত্তীর্ণ হতে পারনি তাদের প্রতি রইলো সমাবেদনা। আর কদিন পরেই তোমরা কলেজের পাট চুকিয়ে ঢুকে পড়বে কলেজ লাইফে। আর কিছুদিন পরেই ২৬মে থেকে অনলাইনে শুরু হবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া। গতবার অনেকেই অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তি হতে গিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়েছে, কেউতো পছন্দের কলেজে ভর্তিই হতে পারেনি! আর ওয়েবসাইট বিভ্রাট তো আর ছিলই। তাই এবার যারা একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিরর জন্য অনলাইনে আবেদন করবে তাদের প্রতি আমার ছোট্র কিছু পরামর্শঃ * এবার সর্বোচ্চ ১০ টি কলেজে অবেদন করতে পারবে ফিশ একই থাকছে। * যে কলেজ তুমি ভর্তি হতে বেশি ইচ্ছুক তা পছন্দ তালিকার প্রথমে রাখবে যে কলেজে ভর্তি হতে চাও না তা তে আবেদন করার প্রয়োজন নেই এমনকি পছন্দ ক্রমের শেষেও নয়। * এমন হয় যদি তুমি ভাবো, পছন্দের কলেজে তোমার চান্স পাবার সম্ভাবনা কম আর তুমি অন্য কলেজেও ভর্তি হতে চাওনা সেক্ষেত্রে তোমার করণীয় হবে শুধুমাত্র তোমার পছন্দের কলেজটি সিলেক্ট কর আবেদন কর। হতে পারে তুমি যদি প্রথম মেধা তালিকায় চান্স না পাও তাহলে দ্বিতীয়, তৃতীয় মেধা তালিকা আছে। আর এসব ...